-
গোলামালির রস-কিচ্ছা
আশ্বিনের অপেক্ষা শেষে কার্তিক পড়তেই মন চনমনিয়ে ওঠে। মনের মধ্যে দোলা লাগে। সে-দোলায় বাকবাকুম-বাকবাকুম ডাকটা বেশ টের পায় গোলামালি। কার্তিক-অঘ্রানে হালকা শীত-শীত একটা আমেজ শরীর-মনকে ঠান্ডা রাখে। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুনে তো শীতের জেরবারে কাহিল দশা। ঋতুর এই চড়কানাচন বড় বিচিত্র। লোকমানপুরের আকাশে ভাতের মাড়ের মতো মেঘ লেপ্টে থাকে। গোলামালি হলদিগাছি-চারঘাট-আড়ানী-পিরিজপুর-নন্দনগাছির দিকের প্রায় সব খেজুরগাছের গাছি।…
-

মায়ের পর আমার পালা
অমলেন্দু ডাক্তারের চিকিৎসায় মা সেরে উঠলেন। ভুগলেন প্রায় মাসখানেক। তারপর শরীর স্বাভাবিক হতে আরো এক মাস। সংসার চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। মায়ের সেরে ওঠাটা কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এখন বুঝি। মা গত হলে আমরা ছ্যাওড় হয়ে যেতাম। এটা ঝামটিয়ার ভাষা। ছ্যাওড় মানে অভিভাবকহীন। আমরা তখন পরপর চার ভাই। সাত থেকে এক। কী দারুণ বা নিদারুণ অবস্থা। আমাদের…
-

বিশুদার গ্যারেজ
কী রে, কনে গিছিলি ফাহাদ? – রাজেদের বাড়িতি গিইছিলাম। – কী অত্তি গিইছিলি সিয়ানে? – সিয়ানে মচ্ছব ছেল। খেইয়ে-দেইয়ে রওনা দিলাম। – তা কী খাওয়ালো? – অনেক অয়োজন ছেলো। ডাল, ভাজি, নাভ্রা, তরকারি, তেঁতুলির অম্বল, পায়েস; কত কিছু। – তা ভালোই হলো খাওয়া-দাওয়া, নাকি? – হয়। তো কিছুদূর আলি হেলিকাপ্টারডা গড়বড় কইরছে। দ্যাহো দি বিশুদা,…
-

ওরা জেগে আছে
গভীর রাতের নিগূঢ় স্তব্ধ অন্ধকারে অন্তহীন কালচে আকাশে অগণিত গ্রহতারা মিটমিট করছে। নিগূঢ় স্তব্ধতাকে কখনো অতল মনে হতে পারে আবার কখনো অগভীরও মনে হতে পারে। চোখের জ্যোতি অন্ধকার দেওয়াল ভেদ করে দিগন্ত লাগোয়া হাওরের দূরের গ্রামগুলোকে দেখতে পারে না। কেবল চেনা আলপথটুকু সামান্য দেখা যায়, এই আলপথ ধরেই হাঁটার সময় হানিফ আকাশের দিকে তাকিয়ে আদমসুরত…
-

গর্জনফুল
‘ছায়ারানি নাকিন তোরতুনও ভালা অভিনয় করে।’ বাউকুড়ানির মতো এলো খবরটা। বুকটা ধক্ করে উঠল। বুকের কোথায় যেন চিনচিন করে ওঠে। লক্ষ্মীর ওপর শুবনীর মেজাজ খারাপ হতে চায়। কিন্তু সে রাগ করে না। এই চা-বাগানে ওর মতো সয়ানি আর মিলবে না। ও খুব বিশ্বস্ত। ওর খবর ভিত্তিহীন হয় না। শুবনী মুখে কিছু বলে না। বড় বড়…
-

স্ট্যাচু মাদার
অক্টোবরের সকাল, ঠান্ডা হাওয়া বইছে, শীত আসছে। পাখির সুমধুর গান এবং শিওরে বসা টুনটুনের ডাকে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি, মায়ের সুতি শাড়ির আঁচলের মতো ভোরের কুসুম কুসুম আলো আমার ঘরের দেয়ালে সেঁটে আছে। মায়ের আঁচল যেন এক মহাকাল, সন্তান যত দূরেই থাকুক সেখানেই ছায়া ফেলে। মায়েরা বোধকরি কোথাও যান না, তাঁরা সন্তানের কাছে ফিরে ফিরে…
-
প্রত্যাঘাত
এখন আকাশে উড়ছে অগ্নিবাণ সিক্ত মাটিতে রক্তের হোলিখেলা ভূ-তলে উতল তপ্ত অগ্নিগিরি কত জীবনের ফুরায়ে গেল যে বেলা। প্রচণ্ড ঝড়ে আকাশ টালমাটাল ফুটছে লক্ষ বুলেটতপ্ত-খই নিরীহ প্রাণের শুনি যে তীব্রনাদ কি সে যন্ত্রণা মৃত্যু যাতনা বই! অস্ত্রের ঘায়ে ধ্বংস যে সভ্যতা মানবতা পদ-দলিত! ক্ষুব্ধ অতি ধাতু-বারুদের মিলিত শক্তিমোহ পরাজিত করে অতিমানবীয় গতি। অসহায় ভেবে হেনেছ…








